পুরানো সংখ্যা খোঁজ করুন »
  • #টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধুর মাজারে রাষ্ট্রপতির শ্রদ্ধা নিবেদন#রানার দুই আত্মীয় আটক#রানাকে গ্রেফতারে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ#রাজশাহীর মার্কেটে ফাটল, বন্ধ ঘোষণা#
  • ► সংবাদদাতা নিয়োগ : গাজীপুর নিউজ ডটকম -এ দেশব্যাপী জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে সংবাদদাতা নিয়োগ করা হচ্ছে। আগ্রহীরা যোগাযোগ করুণ।

স্মৃতির মিনারে গাজীপুর

ইতিহাস আর ঐতিহ্যের মিশ্রণে কালোত্তীর্ণ মহিমায় আর বর্ণাঢ্য দীপ্তিতে ভাস্বর গাজীপুর জেলা। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে গাজীপুরের ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গৌরবোজ্জ্বল। গাজীপুরের পরতে পরতে ছড়িয়ে আছে সে ইতিহাসের বীরত্বগাঁথা। ইত্তেফাকের ‘পটভূমি তার শহীদ মিনার’-এর আয়োজন দেখার পর উৎসাহিত হয়ে সুবিধাজনক বলে গাজীপুর আর টঙ্গীর শহীদ মিনারের খোঁজে বের হই।

অফিসের কাজের মাঝে বৃহষ্পতিবার ছুটি নিলাম। পরদিন শুক্রবার সারাদিন এবং পরের রবিবার ইজতেমা হওয়ায় এই তিনদিন শহীদ মিনারের ইতিহাসের পেছনে ছুটলাম। আমার জন্য এ এক নতুন অভিজ্ঞতা ! গাজীপুরের শহীদ মিনারের বিস্তারিত ইতিহাস কোথাও নেই। মৌখিক ভাষ্য একমাত্র সহায়। শহীদ মিনারের ইতিহাস খোঁজার প্রথম ধাপেই সাহায্য করলেন সেরিনেড অডিও সেন্টারের রিপন ভাই। এই ভদ্রলোক নানান সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত।

তার সহযোগিতায় অ্যাডভোকেট শওকত আলীর মাধ্যমে প্রথমেই কথা হল টঙ্গীতে বসবাসরত ভাষাসংগ্রামী আলহাজ্ব আলাউদ-দীন হোসেনের সাথে। এরপর যোগাযোগ হয় আরেক ভাষাসংগ্রামী মতিন চৌধুরীর সাথেও। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের সময়ের এই দুই ভাষাসংগ্রামী শোনালেন সেসময়ের সব রুদ্ধশ্বাস আখ্যান।

গাজীপুরের প্রসঙ্গে আসতেই বললেন গাজীপুরের প্রথম শহীদ মিনারের কথা। যেটা এখন আর সেখানে নেই। ১৯৬৮ সালের একুশে ফেব্রুয়ারি গাজীপুর রাণী বিলাসমণি উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে প্রথম শহীদ মিনারের পত্তন হয়। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে এ মিনার পাকবাহিনী কর্তৃক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। স্বাধীনতার পর তা সংস্কার করা হলেও পরবর্তীকালে নতুন করে এই বিদ্যালয়েরই সামনের মাঠে গাজীপুরের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ১৯৯২ সালে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়। ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন সেসময়ের গাজীপুর জেলা প্রশাসক মুক্তিযোদ্ধা মো: মোস্তাফিজুর রহমান এবং দুই বছর পর  ১৯৯৪ সালের ১৫ ডিসেম্বর তিনিই উদ্বোধন করেন শহীদ মিনারটি। সর্বশেষ ২০১০ সালের ২৬ মার্চ জেলা প্রশাসক কামাল উদ্দিন তালুকদার আর এ কে সিরামিকস বাংলাদেশ লিমিটেডের সৌজন্যে এই কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সৌন্দয্যবর্ধন কাজ সম্পন্ন করেন।

গাজীপুরের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার

এ তো গেল নতুন শহীদ মিনারের কথা। পুরনো শহীদ মিনার, যা গাজীপুর রাণী বিলাসমণি উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল তার সম্পর্কে জানতে কথা হয় গাজীপুর জেলার বিভিন্ন সূধীজনের সাথে। কথা হয় বর্তমানে সাংসদ ও গাজীপুর পৌরসভার অনেকবারের চেয়ারম্যান আ ক ম মোজাম্মেল হকের সাথে। ১৯৬৮ সালে কয়েকটা ইট সুরকি দিয়ে তৈরি সেই শহীদ মিনারের কথা বলতে গিয়ে আবেগাক্রান্ত হয়ে পড়েন, তবু তারা শহীদ মিনার তৈরি করেছিলেন তারা পরম মমতায়। সেই শহীদ মিনার প্রতিষ্ঠায় জড়িত ছিলেন বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তিবর্গ। শহিদুল্লা বাচ্চু, সৈয়দ বকস ভুইয়া, হাবিবুল্লা ভুইয়া, জাসদের হারুন, প্রফেসর ইয়াকুব, হাবিবুর রহমান, ওসমান, নুরু মাষ্টার, প্রফেসর শহিদুল্লা প্রমুখ। প্রথম শহীদ মিনার তৈরির কথা বলতে গিয়ে অনেকেই যে কথা বললেন সেটা হল, তারা কোন রাজনৈতিক দলীয় ছায়ায় এসব কাজ করেননি। করেছিলেন প্রাণের তাগিদে, মাতৃভাষার প্রতি ভালোবাসায়। বিভিন্ন মতাদর্শের লোকজন সমবেত হয়েছিলেন সেই শহীদ মিনার সৃষ্টিতে। টঙ্গী থেকে শহীদ মিনার তৈরিতে ভূমিকা রাখেন সাবেক এমপি কাজী মোজাম্মেল হক, হাসান উদ্দিন সরকার, আবদুর রশীদ ভুইয়া, আ: হাকিম মাস্টার, সফদার আলী মাস্টার, আজমত উল্লা খান প্রমুখ। টঙ্গীর প্রথম শহীদ মিনার তৈরি হয় বর্তমান স্টেশন রোডে, টঙ্গী সরকারি হাসপাতাল প্রাঙ্গণে। সময়টা ১৯৭২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারি। এর আগে ১৯৬৯ সালে মেইলগেইটে একটা ছোট শহীদ মিনার তৈরি হলেও কয়েকদিন পরই তা ভেঙ্গে ফেলা হয়। হাসপাতালের বর্তমান শহীদমিনার বছরের বেশিরভাগ সময় নিতান্ত অবহেলায় নোংরা অবস্থায় পড়ে থাকে। বর্তমান সংসদসদস্য জাহিদ আহসান রাসেল জানিয়েছেন খুব শিগগিরই একইস্থানে নতুনভাবে শহীদ মিনার প্রতিষ্ঠা করা হবে। নতুন শহীদ মিনার স্থাপনের মাধ্যমে টঙ্গীতেও ভাষা শহীদদের স্মৃতি প্রাপ্য সম্মানের সাথে সারাবছর রক্ষা করা হবে এ আশা টঙ্গীর সব মানুষের।

আলোকচিত্র ও লেখা: রেজাউল করিম নোমান-
সূত্র: দৈনিক ইত্তেফাক

☼ Provided By  websbd.net  » System   Designed by HELAL .Information- E-mail :- helalinfo@gmail.com