মনিরুল ইসলাম মনির, মতলব উত্তর (চাঁদপুর), ১০ আগস্ট : চাঁদপুর জেলার মতলব উত্তর ও মতলব দক্ষিনের নদী, খাল-বিলসহ বিভিন্ন জলাশয়ে যত্রতত্র সনাতন পদ্ধতিতে পাটজাগ দেয়ায় পানি পচে তা পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। একদিকে যেমন পানি পচে পরিবেশ হচ্ছে মারাত্মক দুর্গন্ধময় তেমনি বিভিন্ন প্রজাতির দেশী মাছেরও নিধন ঘটছে। নদী তীরবর্তী হাজার হাজার মানুষ পচা দুর্গন্ধময় পানি ব্যবহার করে পানিবাহিত নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। কৃষকদের অসচেতনতার কারণে এমনটি ঘটলেও পাট পচানোর রিবন রেটিং পদ্ধতি ব্যবহারের ব্যাপারে মতলব উত্তর কৃষি বিভাগের তেমন প্রচারণা নেই। বিশেষ করে ইউনিয়ন পর্যায়ে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের (সাবেক ব্লক সুপারভাইজার) এ ব্যাপারে তেমন ভ‚মিকা নিতে দেখা যায়নি। ফলে শত বছরের সেই সনাতন পদ্ধতিতেই পাটজাগ দিয়ে আসছেন কৃষক।আর প্রতিটি পাট মৌসুমে পরিবেশ পড়ছে মারাত্মক বিপর্যয়ে। অথচ কোন মাথা ব্যথা নেই কর্তৃপক্ষের। সরেজমিন উপজেলার এখলাছপুর ও হাসিমপুর গ্রাম, ইছাখালী, মাথাভাঙ্গা,নাউরী রামপুরসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে ধনাগোদার শাখা নদী ও মেঘনা নদীর দু’তীরে যত্রতত্রভাবে ব্যাপকভাবে দেয়া পাটজাগ দেখা গেছে। ক্রমাগত ভরাট ও দখলের কারণে উস্মুক্ত জলাশয়ের অভাবে বছরের পর বছর ধরে পাট পচানোর উদ্দেশ্যে নদীতে পাটজাগ দেয়া হচ্ছে। কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে উপজেলায় ৪ শ হেক্টর জমিতে পাটচাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও পাটের ভালো দাম পেয়ে কৃষকদের আগ্রহে ৭-৮শ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে। কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, পাটের আঁশ ছড়াতে এ বছর কৃষকদের মধ্যে রিবনার (রিবন রেটিং মেশিন) বিতরণ করা হয়নি। জমি থেকে পাটগাছ কাটার পর তা সরাসরি পানিতে জাগ দেয়ার পরিবর্তে এ মেশিনের মাধ্যমে কাঁচা পাটগাছ থেকে আঁশ ছাড়িয়ে তা গাঁট বেঁধে মাটিতে গর্ত করে সেগুলো রেখে কিছুটা পানি ও ইউরিয়া প্রয়োগ করে পলিথিন দিয়ে ঢেকে দিতে হয়। এভাবে প্রক্রিয়ার কিছুদিন পর পাটের আঁশ পচে যাওয়ার পর তা ধুয়ে শুকাতে হয়। তবে কৃষক বলছেন তারা এ পদ্ধতি সম্পর্কে কিছুই জানেন না। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ইউনিয়ন পর্যায়ে কৃষি বিভাগের নিয়োগকৃত উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা রিবন রেটিং পদ্ধতি সম্পর্কে কৃষকদের কিছুই জানাননি। পাট চাষী উপজেলার নাউরী গ্রামের ফয়েজ আহম্মদ (৪৮) ও রামদাশপুর গ্রামের পান্নু মিয়া (৩৫) জানান, তারা রিবন রেটিং পদ্ধতি সম্পর্কে জানেন না। পাট পচানোর বিকল্প কোন ব্যবস্থা না থাকায় বাধ্য হয়েই তারা নদী-খালে পাটজাগ দিয়েছেন-উপজেলার গোয়ালভাওর গ্রামের ফরিদ হোসেন (৩৩) জানান, নদী-খালে পাটজাগ দেয়ায় মাছের ক্ষতি হচ্ছে এবং এ পানি ব্যবহারের ফলে লোকজনের খোসপাঁচড়া ও চুলকানি হচ্ছে।
0

