পুরানো সংখ্যা খোঁজ করুন »
  • #টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধুর মাজারে রাষ্ট্রপতির শ্রদ্ধা নিবেদন#রানার দুই আত্মীয় আটক#রানাকে গ্রেফতারে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ#রাজশাহীর মার্কেটে ফাটল, বন্ধ ঘোষণা#
  • ► সংবাদদাতা নিয়োগ : গাজীপুর নিউজ ডটকম -এ দেশব্যাপী জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে সংবাদদাতা নিয়োগ করা হচ্ছে। আগ্রহীরা যোগাযোগ করুণ।
0

নাসিক নির্বাচন : আওয়ামী লীগের প্রার্থী চূড়ান্ত আজ

গাজীপুর নিউজ, নারায়ণগঞ্জ (৯ অক্টোবর) : আজ রবিবার থেকে শুরু হচ্ছে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের প্রচার-প্রচারনা।  মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের আর মাত্র তিন দিন বাকি । এখন পর্যন্ত বিএনপির সমর্থিত প্রার্থী এড. তৈমূর আলম খন্দকার একক প্রার্থী হলেও আওয়ামী লীগ তাদের দলীয় মনোনয়ন চূড়ান্ত করতে পারেনি। বর্তমানে মেয়র পদে তিন প্রার্থী দলীয় সমর্থন লাভের জন্য দৌঁড়ঝাপ করছেন। সাবেক পৌর মেয়র ডা.সেলিনা হায়াৎ আইভী , সাবেক সাংসদ এ কে এম শামীম ওসমান ও সাবেক সাংসদ এস এম আকরাম মেয়র পদে মনোনয়ন পত্র জমা দিয়েছেন। তবে আওয়ামী লীগে কেন্দ্রীয় কমিটির এক বৈঠকে শনিবার সিদ্ধান্ত হয় সভাপতি মন্ডলির সদস্য বেগম সাজেদা চৌধূরকে একক প্রার্থী নির্ধারনের জন্য রোববার ডা.সেলিনা হায়াৎ আইভী ও শামীম ওসমানকে নিয়ে বৈঠক করার দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে।
হবে হবে করেও আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী চূড়ান্ত হচ্ছেনা। আবার দল থেকে কাউকে মনোনয়ন দেয়া হবেনা-এমন কথাও বলছেনা আওয়ামীলীগ। আওয়ামী লীগের সমর্থন নিয়ে নাটক যখন জমে উঠেছে তখন বিএনপি এই সিটি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থাকবে কি না তা নিয়েও জনমনে প্রশ্ন সৃষ্টি হয়েছে। দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা।
ধীরে ধীরে এগিয়ে আসছে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন। আগামী ৩০  অক্টোবর  আকাঙ্খিত নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এতদিন প্রার্থীদের পায়ে হেটে ভোটারদের বাসায় বাসায় গিয়ে নির্বাচনী প্রচারনায় বাধা না থাকলেও বাধা ছিলো পথসভা, মাইকিং, লিফলেট বিতরনে। আজ  থেকে আর এ বাধা থাকছে না। নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের রিটার্নিং অফিসার বিশ্বাস লুৎফর রহমান জানান, নির্বাচনী আচরনবিধি মেনে যত ধরনের প্রচারনা চালানো যায় তার সবই রোববার থেকে চালানো যাবে। তবে কোন জনসভা করতে পারবে না, মিছিল করতে পারবে না, পনের জনের বেশি লোক নিয়ে প্রচারনা চালাতে পারবে না, আলোক সজ্জা করতে পারবে না, রাস্তায় এমনভাবে গন সংযোগ করতে পারবে না যাতে মানুষের চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়-মোট কথা আচরনবিধির বাইরে কোন প্রচারনা চালানো যাবে না।
তবে প্রচারনার এ নির্ধারিত সময় শুরুর আগেই অনেকে প্রচারনা চালিয়ে আচরনবিধি লঙ্ঘন করেছেন। এ কারনে এ পর্যন্ত বিশজনকে সতর্ক করে নোটিশ প্রদান করেছে নির্বাচন কমিশন।
তবে নির্বাচনে বিএনপি অংশ নেবে কিনা এ নিয়ে দেখা দিয়েছে সংশয়। গত শুক্রবার বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য এম কে আনোয়ারের বক্তব্যের পরে এ অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হয়েছে। তিনি ঐদিন বলেন, নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে আমরা সেনা মোতায়েনের দাবী জানিয়েছি। কিন্তু নির্বাচন কমিশন রাজি হচ্ছে না। তাই এই নির্বাচন সুষ্ঠু হবে কিনা এ নিয়ে সংশয় রয়েছে। আমরা যদি দলীয় প্রার্থী মনোনয়ন নিয়ে কথা বলতাম, তাহলে নির্বাচন কমিশন হৈ হৈ করে উঠতো। অথচ আওয়ামীলীগ তাদের প্রার্থী মনোনয়ন নিয়ে এত কথা বলছে কিন্তু নির্বাচন কমিশন তাদের কিছু বলছে না।
তার এ বক্তব্যের পরে নারায়ণগঞ্জে ব্যাপক জল্পনা কল্পনার তৈরী হয়েছে বিএনপি নির্বাচনে থাকবে কিনা। নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপি শুরু থেকেই নির্বাচন সুষ্ঠ করার স্বার্থে নারায়ণগঞ্জে নির্বাচনী সময়ের জন্য সেনা মোতায়েন, প্রশাসনে রদবদল ও ই ভি এম মেশিনে ভোট গ্রহনের সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবী জানিয়ে আসছে। কিন্তু এর কোনটি-ই এখনও মানা হয়নি। এসব দাবী না মানা হলে নির্বাচন সুষ্ঠ হবে না বলে মনেকরছেন নারায়ণগঞ্জ শহর বিএনপি’র সাধারন সম্পাদক এ টি এম কামাল। তিনি জানান, নির্বাচন করতে হলে একটি উপযুক্ত পরিবেশ বা লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরী করতে হয়। কিন্তু নারায়ণগঞ্জে এখনও তা হয়নি। কোন শীর্ষ সন্ত্রাসীকে ধরা হয়নি। পুলিশ বা র‌্যাবের কোন বিশেষ অভিযান চালানো হয়। সেনা মোতায়েন আমাদের দাবীটির প্রেক্ষিতে নির্বাচন কমিশন বলেছে, সেনাবাহিনী ছাড়াও অনেক নির্বাচন হয়েছে। কিন্তু অন্য জায়গার নির্বাচন আর নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচন মোটেও এক না। এটা সবাই জানে।
আপনাদের দাবী না মানা হলে নির্বাচনে যাবেন কিনা? এ প্রশ্নের উত্তরে জেলা বিএনপি’র সভাপতি ও বিএনপি মনোনিত প্রার্থী তৈমুর আলম খন্দকার বলেন, আমরা নির্বাচন করতে চাচ্ছি। কিন্তু সরকার চাচ্ছে না আমরা নির্বাচনে অংশ নেই। তারা নির্বাচন সুষ্ঠ করার জন্য ব্যবস্থা নিচ্ছে না। নারায়ণগঞ্জের প্রশাসন একজন প্রার্থীর পক্ষের লোক এটা প্রমানিত সত্য। নারায়ণগঞ্জের তিন থানার ওসি-ও তাদের লোক। আমরা বারবার প্রশাসনে রদবদলের দাবী তুললেও তারা পাত্তা দিচ্ছে না। সেনা মোতায়েনের দাবী মানা হয়নি। ই ভি এম মেশিনের মাধ্যমে কারচুপি করা যায়। আমরা এ মেশিনে ভোট গ্রহনের বিরোধীতা করে আসছি। কিন্তু তারা মানছে না। সরকারের এসব দাবী মানতে হবে। জনগনের ইচ্ছানুযায়ী নির্বাচনী পরিবেশ তৈরী করতে হবে। না হলে নারায়ণগঞ্জ আরেক মাগুরা হবে।
অন্যদিকে শনিবার সন্ধ্যা ৭টায় নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে দলীয় সমর্থিত প্রার্থী চূড়ান্ত হয়নি। আওয়ামীলীগের একটি সূত্র জানায়, শনিবার বিকেলে মেয়র প্রার্থী চূড়ান্ত করতে আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় সম্পাদকমন্ডলী ঢাকার ধানমন্ডির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে একটি দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়। সভা শেষে সিদ্ধান্ত হয় কাল রোববার আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি মন্ডলীর সদস্য সাজেদা চৌধুরী দুই প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ডা: সেলিনা হায়াৎ আইভী ও এ কে এম শামীম ওসমানকে নিয়ে বৈঠক করবেন। দু’জনের সাথে বৈঠকের পরে ঠিক হবে দলীয় সমর্থন কাকে দেয়া হবে। কিংবা আদৌ কাউকে দলীয় সমর্থন দেয়া হবে কিনা।
২৭ টি ওয়ার্ডের ৪লাখ ৪ হাজার ১শ ৮৭ জন ভোটারের এই সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচনে মেয়র পদে ৮ জন, কাউন্সিলর পদে ২৪৭ জন এবং সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর পদে ৫৬ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। আগামী ১২ অক্টোবর মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিন । ১৩ অক্টোবর  প্রতীক বরাদ্দ করা হবে। এর পরই মুলতঃ জমে উঠবে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন।

Filed in: জাতীয়, ঢাকা
☼ Provided By  websbd.net  » System   Designed by HELAL .Information- E-mail :- helalinfo@gmail.com